“জিনিয়াস উইদাউট হার্ড ওয়ার্ক ইজ অ্যা ট্র্যাজেডি।”
প্রকাশিত: বিডিনিউজ২৪
লিংক: https://bangla.bdnews24.com/kidz/712c34c425d7
তারিখ: ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

বিজ্ঞানীরা সচরাচর পর্দার আড়ালে থাকতেই পছন্দ করেন। যদিও তারা তাদের কাজগুলো অ্যাকাডেমিক প্রকাশনা বা বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশ করেন, কিন্তু তাদের সেই কাজগুলোকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা বিজ্ঞানীদের জীবনী এবং তাদের আবিষ্কারের গল্পগুলো পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস নিয়েছি এই সিরিজে। আজ তেমনি এক নিভৃতচারী বিজ্ঞানীর গল্প নিয়ে উপস্থিত হয়েছি আপনাদের কাছে।
খুলনার শিক্ষকতা থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দেওয়া প্রবাসী বিজ্ঞানী ডক্টর নওশাদ হকের জীবনের পথচলা যেন এক নিঃশব্দ সংগ্রামের উপাখ্যান। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিএসআইআরও)-এর প্রিন্সিপাল সায়েন্টিস্ট।
এই প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় গবেষণা সংস্থা এবং বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত। প্রায় ৫ হাজার গবেষক এখানে কর্মরত, যার বার্ষিক বাজেট প্রায় বিলিয়ন ডলার। নওশাদ হক নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, “আমি একজন সায়েন্টিস্ট ফর ডেভেলপমেন্ট।” অর্থাৎ যিনি মানুষের জীবন ও সমাজের উন্নয়নের জন্য গবেষণা করেন। চলুন তার গল্পটি জেনে নিই।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বনবিদ্যা বা ফরেস্ট্রিতে পড়াশোনা করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, তারপর যুক্তরাজ্যে মাস্টার্স ও অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি, তার এই দীর্ঘ শিক্ষাযাত্রার প্রতিটি ধাপে ছিল অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের ছাপ। ২০০৫ সালে তিনি সিএসআইআরও-তে যোগ দেন। তখন থেকেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হাইড্রোজেন প্রযুক্তি, ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও গ্রিন স্টিলের মতো ভবিষ্যৎমুখী গবেষণায় নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। দেশ থেকে বহু দূরে থাকলেও তার চিন্তায় বারবার ফিরে আসে বাংলাদেশ, তরুণ প্রজন্ম এবং তাদের সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতার কথা।
নওশাদ হকের বিশ্বাস, আজকের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সামনে সুযোগ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। বর্তমানে প্রযুক্তি যোগাযোগকে সহজ করেছে, তথ্যের দরজা খুলে দিয়েছে। প্রয়োজন শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা আর কঠোর পরিশ্রম। এই আলোচনায় তিনি তার অভিজ্ঞতা, গবেষণা দর্শন ও উচ্চশিক্ষার বাস্তব দিকগুলো নিয়ে কথা বলেছেন। সেই আলাপ থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরা হলো:
মশিউর রহমান: আপনার পথচলা যদি সংক্ষেপে বলেন- বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত এই পথ কীভাবে তৈরি হলো?
নওশাদ হক: আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বনবিদ্যায় পড়াশোনা করেছি। পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছি। কিন্তু গবেষণার প্রতি টান ছিল ভেতর থেকে। তাই যুক্তরাজ্যে মাস্টার্স, তারপর অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি করি। পিএইচডির পর নিউ জিল্যান্ডে কাজ করেছি এবং শেষে সিএসআইআরও-তে যোগ দিই। একেক ধাপে একেক চ্যালেঞ্জ এসেছে, কিন্তু শেখার আগ্রহ কখনো কমেনি।
মশিউর রহমান: আপনি নিজেকে “সায়েন্টিস্ট ফর ডেভেলপমেন্ট” বলেন। এর অর্থ কী?
নওশাদ হক: আমি মনে করি, গবেষণার সার্থকতা তখনই, যখন তা সমাজ বা পরিবেশের উপকারে আসে। শুধু পেপার প্রকাশ করলেই হবে না, বাস্তবে তার প্রভাব থাকতে হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কার্যকর সমাধান তৈরি করাই আমার লক্ষ্য।

মশিউর রহমান: আপনার গবেষণার মূল ক্ষেত্র নবায়নযোগ্য শক্তি ও হাইড্রোজেন প্রযুক্তি। কেন এই ক্ষেত্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ?