সবাইরে সালাম দিয়া, আমি আমার কথা শুরু করি। আইজকা একখান জটিল বিষয় নিয়া দুইডা কথা কই।

বুয়েট-টেকনিক্যাল থেইক্যা যারা পাশ করে, তাদের কি ইঞ্জিনিয়ার কইবেন? নাকি গোল্ডেন ডিম পাড়া মুরগি কইবেন? বাইরের দেশে গেলে হেরা একদম বিশ্বমানের ইঞ্জিনিয়ার হইয়া যায়। হায়রে কপাল! এই দেশটা তাদের যোগ্যতা ধরে রাখতে পারে না। আর তাইলে অন্য ভার্সিটির পোলাপানগুলাও বাইরে যায়, কিন্তু আর ফিরে না। মনে হয় দেশ থেকে যাওয়ার সময় পাসপোর্ট ফেলে গেছে!


দেশ কই? আর পোলাপান কই?

পোলারা পড়ালেখা শ্যাষ কইরা কী করবো? যারা একটু উচ্চাকাঙ্ক্ষী, তারা তো আরও গবেষণা করবো। কিন্তু আমাগো দেশে কী আছে গবেষণার ব্যবস্থা? আছে খালি টং আর চা-সিগারেটের দোকান। এইডা পোলাপানের দোষ না, এইডা আমাদের "নকল বাঘ" হওয়ার দোষ। ভারত ২৩টা IIT বানাইছে, আর আমরা ৫৪ বছরে দুইটা ভালো ভার্সিটিও বানাইতে পারলাম না। বানাইছি তো অনেক, কিন্তু ভার্সিটি কইতে শরম লাগে। এইডা কি কোনো কথা হইলো!

পোলাপান বিদেশে যায়, মেধা দিয়া কামাই করে। কিন্তুক হেরা দেশে ফিরতে চায়। কিন্তুক দেশে ফিরা আইলে কি করবো? গুলিস্থানে বইসা মালার ব্যবসা করবো? হেরা তো খাইয়া বাইচতে চাইবো! বুয়েটও তার পুরান ছাত্রগো খবর লয় না। কোনো ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রাম আছে? নাই! বুয়েট কি আমেরিকা-ইউরোপ যাইয়া মেধা খুঁজে? না। তয় ভারত, চীন, পাকিস্তান এই কামডা করে। আর আমরা খালি পয়সা নষ্টের প্রজেক্ট বানাই। আর সেই পয়সা দিয়া নেতার পোলাপান বিদেশে আরাম-আয়েশ করে।


তেল আর রাজনীতি ছাড়া কাম নাই!

আমাগো দেশে ভালো কাম করতে গেলে তেলের কারবার করতে হয়। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ইউনুস, জামাত-এনসিপি—কোনো না কোনো দল না ধরলে কাম নাই। তেল দেওয়া আমাগো ন্যাশনাল গেম! এইডা কোনো কথা হইলো? এই দেশের ভবিষ্যৎ তো ভালা হইতে পারে না। ভালো পোলাপানগুলা বিদেশ থেইক্যা ফিরলে রাষ্ট্রের থেইক্যা কোনো সাহায্য পায় না। যোগ্যতা থাকলেও তার কোনো দাম নাই। অন্য দেশে যোগ্যতা থাকলে কাম কইরা খাইতে পারে, আর আমাগো দেশে খালি যোগাযোগ করতে করতে তার জীবন শ্যাষ।


ভিসি'র কাজ খালি ফিতা কাটা আর ডাকসুর কাজ মিছিল

ডাকসুর নেতাগুলা কী করে? হেরা কোনোদিন মেধার কথা কইছে? এই ভার্সিটি ১০০ বছর পুরান, কিন্তুক কোনো মেধার কাম করে না। কেবল মিছিল আর মিটিং। অন্য দেশের পুরান ভার্সিটিগুলা কত ভালো ভালো কাম করে। আর আমাগো ভার্সিটিতে খালি রাজনীতি।

ভার্সিটির ভিসি-রা কী করে? খালি ফিতা কাটে। আরে বাবা, ভিসি'র কাম হইলো পুরান ছাত্রগো থেইক্যা সাহায্য লওয়া, বিদেশ থেইক্যা ফান্ড আনা, সরকারের থেইক্যা পয়সা আনন। তয় ডাকসুর নেতাগুলা এসব নিয়া কিছু কয় না। খালি আবাসন সংকটের কথা কয়! যে ভার্সিটিতে অপ্রয়োজনীয় সাবজেক্টগুলায় ২০০ পোলাপান ভর্তি হয়, সেইখানে তো আবাসন সংকট হইবোই!


যুদ্ধ খালি মাঠে না!

বিএসসি আর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারগো মধ্যে দ্বন্দ্ব চলতাছে। এইডা নতুন কোনো ব্যাপার না। কিন্তুক একটা কথা কই, মানুষ কি খালি ডিগ্রি দিয়া চলে? একজন সৈনিক তো আর ডিগ্রি দিয়া বীরশ্রেষ্ঠ হয় না, তার কাজের লাইগা হয়। কর্মজীবন তো এক ধরনের যুদ্ধ। আমাগো দেশে এমন ব্যবস্থা বানাইতে হইবো, যেখানে যোগ্যতার লড়াই হইবো। কে ডিপ্লোমা আর কে বিএসসি, এইডা বড় কথা না। বড় কথা হইলো কে ভালো কাম করতে পারে। মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়াও অনেকে বেকার থাকে। ডিগ্রি তো খালি একটা সনদ, জীবনের সব না। এইডা সবাইরে বুঝতে হইবো।

আইজ বৃহস্পতিবার ১৩ই ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, কথাডা একদম দিলের থিকা কইলাম এই ঢাকাইয়া কবি। বড়দের কদমবুছি ও ছোটদের সালাম দিয়া বিদায় লইলাম।