চাকুরিতে আবেদন করবার সময় আমরা অনেক সময় স্প্রে পদ্ধতিতে চাকুরির আবেদন করি। এই পদ্ধতিতে এইদিক সেইদিকে ইচ্ছে মতন স্প্রে মারার মতন করে বিভিন্ন পদে বিভিন্ন জায়গাতে আবেদন করতে থাকি। একই সিভি এবং একই কাভার লেটার সব জায়গায় ছড়িয়ে দিতে থাকি (পোস্ট করতে থাকি)। এই ক্ষেত্রে মানসিকতা হল, “যেখানে লাগবে লাগুক - আমার কি দায় পড়েছে পদটির বিস্তারিত জানার?” চাকুরিটির নিয়োগকর্তারই দায়িত্ব হল আমার সিভিটি পড়ে আমি যোগ্য কিনা তা যাচাই করা।

অপরদিকে ফোকাস পদ্ধতি হল অনেকটা বাঘ যেভাবে শিকার করে সেরকম। বাঘ শিকার করার সময় একটি দলের মধ্য থেকে পর্যবেক্ষণ করে শুধু মাত্র একটি নির্দিষ্ট জন্তুকেই নির্ধারিত করে। এরপরে দলের অন্যান সবাইকে অগ্রাহ্য করে  শুধুমাত্র তার নির্দিষ্ট করা পশুটিকেই আক্রমন করার জন্য কৌশল নির্ধারণ করে এবং এগিয়ে যায়। সেটাকে ধরবার সময় পাশে অন্যান্য লোভনীয় জন্তু থাকলেও সেটিকে বধ করার চেষ্টা না করে- শুধু মাত্র যেটিকে সে টার্গেট করাছে শুধু সেটিকেই আক্রমণ করে এগিয়ে যায়। সেটিকে ধরতে না পারলে বিরতি নিয়ে আরেকটি টার্গেট সে ঠিক করে।

যারা একটু আলসে ধরনের তারা মনে করে যে - স্প্রে পদ্ধতিই ভালো কেননা এতে আপাত দৃষ্টিতে কম পরিশ্রম করতে হয়। বিছানাতে শুয়েই তারা বিভিন্ন জায়গায় আবেদন পত্রের স্প্রে মারতে থাকে। কিন্তু এই কাজের জন্য তাদের অনেক সময় ব্যয় করতে হয়। অপরদিকে ফোকাস পদ্ধতিতে গুটি কয়েক জায়গাতে হলেও যেহেতু কাস্টোমাইজ করে সিভি ও কাভার লেটারটা তৈরী করতে হয় তাই এই ক্ষেতেও বেশ সময় লাগে। সময়ের বিবেচনায় দুটিই মোটামুটি একই সময় লাগলেও ফোকাস পদ্ধতিতে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল ভালো হয়। কেননা এই পদ্ধতিতে প্রথম দিকে ব্যর্থ হলেও পরবর্তিতে সুযোগ আসে।

আমার একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করি যেটি আমার “সফল ক্যারিয়ার গড়ার উপায়” https://www.rokomari.com/book/213856/sofol-career-gorar-upay বইটিতে লিখেছি। সিঙ্গাপুরের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার সময় একটি প্রতিষ্ঠানে আমি যোগাযোগ করেছিলাম। যদিও তারা তখন আমাকে চাকুরির অফার দেয়নি। যেহেতু আমার সাথে সরাসরি যোগাযোগ হয়েছিল, তাই কয়েক মাস পরে পুনরায় যোগাযোগ করলাম এবং এইবার তারা আরো পরে যোগাযোগ করতে বললো। এরপরে আরো ৬ মাস পরে তারা পুনরায় আমাকে সাক্ষাতকারের জন্য ডাকলো। এবং পরিশেষে সেই প্রতিষ্ঠানে আমি চাকুরি পাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষনা ছেড়ে সেই স্টার্টআপেই আমার প্রথম চাকুরি। পরবর্তিতে ম্যানেজারকে জিজ্ঞাস করেছিলাম- কেন তারা আমাকে চাকুরিতে নিল? তারা জানাল- আমি খুব ফোকাস পদ্ধতিতে তাদের সাথে যোগাযোগ রেখেছিলাম। আমার  Persistance বা অধ্যাবসায় গুণটি তারা পছন্দ করেছিল।

পরিশেষে আমি ফোকাস পদ্ধতিতেই চাকুরির জন্য চেষ্টা করার প্রতি উৎসাহ দিব। কেননা দীর্ঘমেয়াদিতে এটি ভালো ফলাফল দেয়। আরেকটি সবথেকে বড় সুবিধা হল -  প্রাথমিক ভাবে চাকুরিটা না পেলেও, এই পদ্ধতিতে আপনার নেটওয়ার্ক করা হয় এবং সেই প্রতিষ্ঠানের সাথে আপনার যোগাযোগ হয় যা ভবিষ্যতে ক্যারিয়ারে ভালো ভূমিকা রাখে।

মজার ব্যাপার হল এই দুটি পদ্ধতি শুধু মাত্র যে চাকুরির ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যায় তাই নয়, নতুন বিজনেস ও প্রোডাক্ট এর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করতে পারেন।

এই লেখাটি লেখার জন্য আশরাফ ভাইয়ের কিছু পরামর্শ পেয়েছি এবং তাকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

তারিখ: ১৯ নভেম্বর ২০২১