প্রকাশিত: সিঙ্গাপুর ১৮ জুন ২০২৩
ছুটির দিন! আবার সেই সাথে বাবা-দিবস বলে কথা, বৌ বাইনা ধরলো দূরে কোথাও ঘুরাতে নিয়ে যাবার জন্য।
এমনিতেই সারা সপ্তাহ ধরে কাজ করি (বৌ এর ভাষায় কম্পিউটার নিয়ে বসে থাকি), তাই ছুটির দিনে আইলসেমি করতেই মন বেশী চায়। হাওয়া ম্যাডামের জোরাজুরিতেই আমরা পৃথিবীতে এলাম, সেখানে আমার আর রাজি না হয়ে উপাই নেই। বৌ এর চাপে পড়ে বের হলাম। কোথায়? কেন, মেয়েদের ঘুরাতে নিয়ে যাবার জন্য একটিই তো জায়গা- “শপিং সেন্টার”।
সেখানে ঢুকবার দুটি গেট। আমি একটু ঘুরে দূরের গেট দিয়ে ঢুকলাম। কেননা কাছের গেটের কাছে সোনার দোকান। আর এই দোকানগুলি কেনো যে মেয়ে মানুষদের দূর থেকে চুম্বকের মতন কাছে টানে, তা বুঝতে পারি না। আবার লিখে রেখেছে “সেল”। এই একটা শব্দই আমার বৌকে ঘায়েল করবার জন্য যথেষ্ট। কততো চেষ্টা করি বৌকে বশে রাখতে, কিন্তু পারি না। আর এই দোকানগুলি কিভাবে কি যাদু মন্ত্রে বশ করে তা বিশাল এক গবেষনার বিষয়।
এইদিক সেদিক অনেক ঘুড়াঘুড়ি করে ফিরে আসার সময় বৌ বললো,
“আরে কিছুই তো কিনিনা।”
“এইতো তুমি দুধ-সিরিয়াল কিনলে”।
বৌ বললো, “আরে! এইসব কি কেনা হল নাকি?”
কিছুক্ষন থেমে আবার বললো, “আরে! তুমি তো আমাকে ঘুড়িয়ে এই গেট দিয়ে ঢুকালে কেনো? ও বুঝতে পেরেছি, এইদিকে তো সোনার দোকান।”
বুঝলাম ধরা পড়ে গেছি। বুদ্ধিটা কাজে লাগলো না। আমি আমতা আমতা করে কি বললাম তা আমিই নিজেও কিছু বুঝলাম না।
“দ্যাখো, আজকে বাবা-দিবস, আমাকে কিছু গিফট কিনে দাও” বৌ বললো।
আমি অবাক হয়ে বললাম, “আরে! বাবা-দিবস তো আমার দিন, তোমাদেরই উচিত ছিল কিছু গিফট আমাকের করার”।
বৌ আবার যা বললো তা শুনে টাসিক খেলাম।
“এই যে স্যার শুনেন, আপনের ছেলেগুলিকে কষ্ট করে পেটে ধরেছি বলেই তো তুমি বাবা হতে পেরেছ, তাই না? আমি এত কষ্ট করে তোমাকে ‘বাবা’ বানালাম, গিফটটা আমারই প্রাপ্য।”
আমি হতবাক হয়ে আর কোন যুক্তি পেলাম না বলে, বৌকে নিয়ে সেই সোনার দোকানের দিকে পা বাড়ালাম। বলা যায় না আবার কোন যুক্তি দিয়ে ঘায়েল করে দিবে।
মুখে মুখে বললাম,
“পুরুষ কুলে আমি রইলাম
পুরে পুরে রই
নারীগণের অভ্যাস দেখি
চিন্তা করি বই।
তারা ভালাত হয় না।
জোটকে মিলি চল দুইজনা।”
*(*কবিগান - জোটক। **১৯৬৪ **সনে **কবি **সরকার **হেদায়াতুল **ইসলাম **থেকে **সংগ্রীত **বাংলা **একাডেমীর **ফোকলোর সংগ্রহমালা)